হেলথ

নারীর হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ!

বিএনএন ৭১ ডটকম
হেলথ ডেস্ক: নারীর জীবনে ‘হৃদরোগ’ নীরব ঘাতকের মতো কাজ করে। শুরু থেকেই এর লক্ষণগুলো খেয়াল রেখে চিকিৎসা করা হলে মৃত্যু ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ের উপর প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারতের ‘হার্ট কেয়ার ফাউন্ডেশন’য়ের সভাপতি এবং ভারতের মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন’য়ের প্রাক্তন সভাপতি ডা. কেকে আগারওয়াল বলেন, “নারীদের হৃদরোগ ধরা পড়ার সম্ভাবনা কম থাকে। পুরুষের তুলনায় নারীর সাধারণত দশ বছর দেরিতে এবং অনেক বেশি ঝুঁকি সহকারে রোগ ধরা পড়ে। তাদের মধ্যে পুরুষের তুলনায় লক্ষণগুলো (যেমন- বুকে ব্যথা এবং সেই ব্যথা কাঁধ, বাহু ও গলাতে ছড়িয়ে যাওয়া) কমই দেখা দেয়। অনেক নারীর হার্ট অ্যাটাকের কারণ জানা যায় না, বিশেষ করে তরুণ বয়সে অথবা ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে।” তাই নারীদের হার্ট অ্যাটাকের কয়েকটি লক্ষণের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত।

বুক ব্যথা: ব্যথা, চাপ অথবা বুকের যে কোনো অস্বস্তি নারীদের ‘হার্ট অ্যাটাক’য়ের লক্ষণ। তবে অনেক নারীর বুক ব্যথা ছাড়াই হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে। এই ধরনের বুক ব্যথায় অনেকটা চেপে আসা বা টান লাগার মতো অনুভূতি হতে পারে। আর এটা কেবল বুকের বাম পাশে নয় বরং বুকের যে কোনো জায়গায়ই হতে পারে।

গলা, মুখের হাড়, কাঁধ বা পিঠের উপরের অংশে ব্যথা: এই লক্ষণগুলো পুরুষের তুলনায় নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এই ধরনের ব্যথা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে আবার তীব্র হওয়ার আগে বিক্ষিপ্তভাবেও অনুভূত হতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা কেবল বুকেই হবে এমন ধারণা থাকার ফলে এই ব্যথাগুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়।

পেটের অস্বস্তি: পারিবারিকভাবে যদি হৃদরোগের সমস্যা থাকে তবে হঠাৎ পেটে ব্যথা, পেটে অস্বস্তি অথবা বুকে জ্বালাপোড়া ইত্যাদি এড়িয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। এটা হার্ট অ্যাটাকের একটা লক্ষণ। অনেক নারী পেটে অত্যধিক চাপ অনুভব করে যা অনেকটাই পেটের উপরের অংশে ভারী কিছু থাকার মতো, যা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ।

শ্বাস প্রশ্বাস স্বল্পতা ও বমি ভাব: হঠাৎ করেই যদি শ্বাস প্রশ্বাসের দ্রুত ওঠানামা দেখা দেয় তাহলে বুঝতে হবে এটা হার্ট অ্যাটাকের একটা গুরুতর লক্ষণ। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ঘাম হওয়া: যে কোনো মৌসুমেই কারণ ছাড়া হঠাৎ করে ঠা-া ঘাম দেখা দেওয়া হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে। এই অস্বাভাবিক ঘাম দেখা দিলে দ্রুত তার প্রতি মনযোগী হওয়া উচিত।

দুর্বলতা: কোন ভারী পরিশ্রম করা ছাড়াই শরীর ক্লান্ত লাগলে বা দুর্বলতা কাজ করা হৃদযন্ত্রের চাপ নির্দেশ করে। খেয়াল রাখতে হবে এর সঙ্গে বুকের ব্যথাও জড়িত আছে কিনা।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *