অর্থনীতি

নতুন করদাতার খোঁজে জেলা-উপজেলা এবং গ্রাম পর্যায়েও জরিপ কাজ চালানো হবে

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: নতুন করদাতা খুঁজে বের করতে মাঠে নামছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সেজন্য সম্ভাবনাময় এলাকা ও প্রতিষ্ঠানে জরিপ কাজ চালানো হবে। কারণ এনবিআরের লক্ষ্য চলতি অর্থবছরে জরিপের মাধ্যমে সোয়া ৫ লাখ নতুন করদাতা খুঁজে বের করা। সেই লক্ষ্যে জেলা, উপজেলা এমনকি গ্রাম পর্যায়েও চলবে কার্যক্রম। তার বাইরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনের মাধ্যমেও কার্যক্রম চলবে। ওই লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপও (পথনক্শা) তৈরি করা হয়েছে। সাধারণত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, কারখানা, বাড়ি কিংবা অ্যাপার্টমেন্টসহ বড় স্থাপনা পরিদর্শনের মাধ্যমে নতুন করদাতা চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। তবে এবার কর বিভাগ অভ্যন্তরীণ পরিদর্শন ও জরিপকাজে বেশি মনযোগ দেবে। বিশেষত বাড়ি বাড়ি গিয়ে নতুন করদাতার খোঁজ নেয়া হবে। তাছাড়া নতুন করে বিদেশী নাগরিকদের কর ফাঁকি ধরতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও খোঁজ নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া করযোগ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত হলে তাৎক্ষণিক তাদের কর সনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) দেয়ার মাধ্যমে কর ফাইল খোলা হবে। এনবিআর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এনবিআরের পক্ষ থেকে বিগত ২০১৬ সাল থেকেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে জরিপকাজ শুরু হয়। ওই সময় প্রতিটি কর অঞ্চলকে ওই ধরণের জরিপের মাধ্যমে নতুন করে ১৮ হাজার করে করদাতা চিহ্নিত করার লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছিল। আর কর অঞ্চল একইভাবে কর সার্কেলগুলোকে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ কওে দেয়। বর্তমানে দেশব্যাপী প্রায় সাড়ে ৬শ’ আয়করের সার্কেল অফিস আছে। তবে এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান কর আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের হয়রানি না করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। তার মতে, প্রাপ্য কর আদায় করা হবে। কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন। সম্প্রতি নরসিংদীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি কর্মকর্তাদের এসব বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। পাশাপাশি করদাতাদেরও প্রযোজ্য কর সঠিক নিয়মে সরকারের কোষাগারে জমা দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র জানায়, গ্রাম পর্যায়ে নতুন করদাতা সৃষ্টি করতে ইতিপূর্বে কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। সে লক্ষ্যে দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদে অবস্থিত ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে নতুন কর সনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) দেয়ার উদ্যোগও ছিল। কিন্তু তাতে এখন পর্যন্ত বড় ধরণের কোন সাফল্য আসেনি। তাছাড়া গৃহ সম্পত্তির মালিক, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মালিক, বেতনভুক্ত কর্মকর্তা এবং অন্যান্য পেশাজীবীদের একটি বড় অংশই এখনো আয়করের আওতায় আসেনি। নতুন জরিপে মূলত ওই শ্রেণীর ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেই টার্গেট করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ওই ধরণের বেশকিছু ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় আনা হয়েছে। গত দুই বাজেটে ওই ধরণের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বাধ্যতামূলক ই-টিআইন নেয়ার বিধান করায় নতুন টিআইএনধারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *