হেলথ

দাম্পত্য জীবন বাঁচানোর এখনই সময়!

বিএনএন ৭১ ডটকম
হেলথ ডেস্ক: আজকাল প্রায়ই ইয়াবা উদ্ধারের, গ্রহণের সংবাদ পাচ্ছি আমরা। ইয়াবায় আশক্তিতে কি কি হতে পারে, তা কি জানি?
ইয়াবা ট্যাবলেটের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি হবার কারণে প্রথমদিকে প্রধানত উচ্চবিত্তদের মাঝেই এটি বিস্তার লাভ করেছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে নতুন নেশার আনন্দ নিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের উঠতি বয়সী তরুণ তরুণী, গায়ক গায়িকা, নায়ক নায়িকারা এ ড্রাগ গ্রহণ করতে শুরু করে।

ইয়াবা খেলে সাময়িক আনন্দ ও উত্তেজনা হলেও, অনিদ্রা, খিটখিটে ভাব ও আগ্রাসী প্রবণতা, ক্ষুধা কমে যাওয়া ও বমি ভাব, ঘাম, কান-মুখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শারীরিক সঙ্গের ইচ্ছে বেড়ে যাওয়া প্রভৃতি লক্ষণ দেখা যায়।
ইয়াবার পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিশিষ্ট মনোচিকিৎসক ও সাহিত্যিক ডা. মোহিত কামাল বলেন, নিয়মিত ইয়াবা সেবনে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, নিদ্রাহীনতা, খিঁচুনি, মস্তিষ্ক বিকৃতি, রক্তচাপ বৃদ্ধি, অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন, হার্ট অ্যাটাক, ঘুমের ব্যাঘাত, শরীরে কিছু চলাফেরার অস্তিত্ব টের পাওয়া, অস্বস্তিকর মানসিক অবস্থা, কিডনি বিকল, চিরস্থায়ী যৌন-অক্ষমতা, ফুসফুসের প্রদাহসহ ফুসফুসে টিউমার ও ক্যান্সার হতে পারে। এ ছাড়া ইয়াবায় অভ্যস্ততার পর হঠাৎ এর অভাবে সৃষ্টি হয় হতাশা ও আত্মহত্যার প্রবণতা।

তিনি বলেন, এ মাদক সাধারণ শান্ত ব্যক্তিটিকেও হিং¯্র ও আক্রমণাত্মক করে তুলতে পারে। ইয়াবা গ্রহণে হ্যালুসিনেশন ও সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হওয়াটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। হ্যালুসিনেশন হলে রোগী উল্টোপাল্টা দেখে, গায়েবি আওয়াজ শোনে। আর প্যারানয়াতে ভুগলে রোগী ভাবে অনেকেই তার সঙ্গে শত্রুতা করছে। তারা মারামারি ও সন্ত্রাস করতেও পছন্দ করে।
ইয়াবা সেবনকারীদের দাম্পত্য জীবন চিরতরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে। নার্ভ বা স্নায়ুগুলো দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে অচল হয়ে যায়। যেহেতু ইয়াবা সেবনকারীরা শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়ে, স্বাভাবিকভাবেই তারা মানসিক রোগে আক্রান্ত হতে পারে। অস্থিরতার কারণে তারা যেকোনো অঘটন ঘটাতে পারে।
তাই ইয়াবার প্রতিরোধে সমাজের সচেতন সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *