অর্থনীতি লিড নিউজ

নকল ও নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামে বাড়ছে দুর্ঘটনা

বিএনএন ৭১ ডটকম
ঢাকা: দেশে অহরহ ঘটছে শর্টসার্কিটজনিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। তাতে সম্পদ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। মূলত নকল এবং নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। কারণ অনেক সময়ই গ্রাহক নিজেই খরচ কমাতে গিয়ে নিম্নমানের তার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কিনে নিচ্ছে। আবার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নামি ব্র্যান্ডের পণ্য কিনতে গিয়েও ওই একই দামে নকল ও নিম্নমানের পণ্য কিনে নিয়ে যাচ্ছে। তাতে গ্রাহক প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি বাসাবাড়ি, অফিস কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। কিন্তু এ নিয়ে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলোর কোনো তদারকিই নেই। তাছাড়া মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বিএসটিআইয়েরও তেমন কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেই। ফলে ২০১৬ সালে প্রায় ১০ হাজার এবং ২০১৭ সালে অন্তত ১১ হাজার বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়। ফায়ার সার্ভিস এবং বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিগত ২০১৬ ও ২০১৭ সালে অন্তত ৩৫ হাজার অগ্নিদুর্ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। তার মধ্যে নকল ও নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের কারণেই অর্ধেকের বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর ওসব দুর্ঘটনায় ২০১৬ সালে টাকার অঙ্কে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ২৪০ কোটি টাকা।

২০১৭ সালে তা আরো বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। বাজারজুড়ে নকল ও নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের বাড়বাড়ন্ত এবং গ্রাহকে অসচেতনতার কারণেই শর্টসার্কিটজনিত অগ্নি দুর্ঘটনা বাড়ছে। কারণ অনেক গ্রাহকই স্থানীয় বিদ্যুৎ মিস্ত্রি বা ইলেক্ট্রিশিয়ানের পরামর্শে ওসব সরঞ্জাম কিনে থাকেন। আর গ্রাহকের কারছে পণ্য বিক্রি বাড়তে ওসব কোম্পানিগুলো মিস্ত্রি ও ইলেক্ট্রিশিয়ান আর্থিক সুবিধাও দিয়ে থাকে। গত নভেম্বরে কুমিল্লার বুড়িচংয়ের একটি বাজারে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে অন্তত ৩০টি ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে যায়। আহত হন বেশ কয়েকজন।

সূত্র জানায়, র‌্যাবের অভিযানে গত এক বছরে রাজধানীতে বেশ কয়েকটি নকল ও নিম্নমানের তার এবং সরঞ্জাম তৈরির কারখানার তথ্য পাওয়া যায়। র‌্যাব ৭টি অভিযান চালিয়ে অন্তত ১৩ কোটি টাকার নকল বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম জব্দ করাসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করে। তারা বাজারে ভালোমানের বৈদ্যুতিক পণ্য তৈরিকারক হিসেবে পরিচিত বিআরবি ক্যাবলস, বিএসবি, বিজলী, প্যারাডাইস, এমএনপি ও ইস্টার্ন ক্যাবলসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের লোগো নকল করে তারা নিম্নমানের পণ্য তৈরি, মোড়কজাত ও বাজারজাত করে আসছিল।

এদিকে নকল ও নিম্নমানের বৈদ্যুমিক সরঞ্জাম প্রসঙ্গে ঢাকা ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. শাহিদ সারওয়ান জানান, বাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য তারসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক পণ্য কেনার সময়ই মালিকদের এর মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। সেক্ষেত্রে বিতরণ কোম্পানিগুলোর তেমন কিছু করার নেই। তবে তাদের সচেতন করতে বিতরণ কোম্পানিগুলো প্রচারাভিযান উদ্যোগ নিতে পারে।
অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম জানান, বৈদ্যুতিক পণ্যে ভেজালরোধে যথেষ্ট ব্যবস্থা ও নজরদারি নেই। গ্রাহকপর্যায়ে মানসম্পন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারের গুরুত্ব এবং সেগুলোর আসল-নকল চিহ্নিত করার কিছু কৌশল জানাতে প্রচারণা জরুরি।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহম্মেদ জানান, দেশে সংঘটিত অগ্নিদুর্ঘটনার ৫৫ ভাগই হয়ে থাকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে। শহরাঞ্চলেরই শর্টসার্কিট থেকে আগুন দুর্ঘটনার পরিমাণ বেশি ঘটছে। ভালো মানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হলে ওই ধরনের দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে আসতো।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *