সাক্ষাতকার

একদিন আমাকে দিয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে চিনবে গোটাবিশ্ব: নানজীবা

বিএনএন ৭১ ডটকম
বয়স এখনো ১৮র গণ্ডিতে পৌঁছায়নি কিন্তু এখনই একাধারে ট্রেইনি পাইলট, সাংবাদিক, নির্মাতা, উপস্থাপিকা, লেখক, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর, বিএনসিসি ক্যাডেট অ্যাম্বাসাডর এবং বিতার্কিক তিনি। স্বপ্নময়ী এই তারুণ্যদীপ্ত প্রতিভার নাম নানজীবা খান। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, জীবনবোধ এবং সাফল্যের পেছনের মানুষগুলো নিয়ে নানজীবার সঙ্গে কথা বলেছেন বিএনএন ৭১ ডটকমের সঙ্গে। অ্যারিরাং ফ্লাইং স্কুল-এ ‘ট্রেইনি পাইলট’ হিসেবে অধ্যয়ন করছেন নানজীবা। স্বপ্ন আকাশছোঁয়ার। কাজ করছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের (হ্যালো) সঙ্গে, বিটিভির নিয়মিত উপস্থাপক, ব্রিটিশ আমেরিকান রিসোর্স সেন্টারের ব্যান্ড অ্যাম্বাসাডরও তিনি। প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে পেয়েছেন ইউনিসেফের মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড। ২ বছরের গবেষণা শেষে চলতি গ্রন্থমেলায় নানজীবার লেখা প্রথম বই ‘অটিস্টিক শিশুরা কেমন হয়’ সাফল্যের সঙ্গে বিক্রি হয়েছে গ্রন্থমেলার ১ম দিন থেকেই।

 

প্রশ্ন: মিডিয়ায় প্রথম কাজ কোনটি?
নানজীবা: ২য় শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘কাগজ কেটে ছবি আঁকি’ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মিডিয়ার জীবন শুরু করি। বর্তমানে বিটিভিতে ‘আমরা রঙ্গিন প্রজাপতি’, ‘আমাদের কথা’, ‘আনন্দ ভুবন’ ও ‘শুভ সকাল’ নামে অনুষ্ঠান উপস্থপনা করছি।

প্রশ্ন: এবার নির্মাতা নানজীবা সম্পর্কে কিছু বলুন?
নানজীবা: ১৩ বছর বয়সে জীবনের প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্যরে চলচ্চিত্র ‘কেয়ারলেস’ পরিচালনা করি। জীবনের প্রথম প্রামাণ্যচিত্র ‘সাদা কালো’ পরিচালনার জন্য ‘ইউনিসেফের মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছি আর এটি তৈরি করতে যা টাকা খরচ হয়েছে তার সবই ছিল আমার টিফিনের জমানো টাকা। এরপরে ‘গ্রো আপ’, ‘দি আনস্টিচ পেইন’সহ আরো কিছু প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেছি।

প্রশ্ন: এবার সাংবাদিকতায় পথচলার গল্প শুনতে চাই
নানজীবা: ৮ম শ্রেণিতে পড়াকালীন শিশু সাংবাদিক হিসেবে জীবনের ১ম সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম সাকিব আল হাসানের। পর্যায়ক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সংস্কৃতিমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী, তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, সেলিনা হোসেন, ইমদাদুল হক মিলন, হাবিবুল বাশার সুমন, আবিদা সুলতানা, সাদেকা হালিম, নিশাত মজুমদার, ফরিদুর রেজা সাগর, জুয়েল আইচ, মীর আহসান, র‌্যাবের প্রধান বেনজির আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম ফেরদৌস, ওয়াল্ড ডিবেট সোসাইটির পরিচালক অ্যালফ্রেড স্নাইডার ও ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ এ পর্যন্ত ৭৫ জন বিশিষ্টজনের সাক্ষাৎকার নিয়েছি।

প্রশ্ন: বিতার্কিক নানজীবার সাফল্য কী কী?
নানজীবা: একাদশ শ্রেণিতে পড়াকালীন ক্যামরিয়ান ডিবেটিং সোসাইটির ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। স্কুল ও কলেজ জীবনে বিতার্কিক হিসেবে অর্জন করেছি বেশ কয়েকটি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার। উপস্থিত ইংরেজি বক্তৃতায় বিএনসিসি ও ভারত্বেশ্বরী হোমসের প্রথম পুরস্কার পেয়েছি।

প্রশ্ন: এবার ক্যাডেট নানজীবা সম্পর্কে জানতে চাই
নানজীবা: দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াকালীন ‘বিএনসিসি ক্যাডেট অ্যাম্বাসাডর’ হিসেবে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর থেকে ৩ ধাপে লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার পরে সারাদেশের হাজার হাজার ক্যাডেটের মধ্য থেকে বিএনসিসির সবচেয়ে দীর্ঘ এবং ব্যয়হুল ভারত সফরে অংশগ্রহণ করেছি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নেয়ার সুযোগ হয়। এছাড়া রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, কাজাকিস্তান, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপসহ মোট ১১টি দেশের সামনে বাংলাদেশকে তুলে ধরেিেছ। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘রাইফেলে ফায়ারিং’, ‘অ্যাসোল্ড কোর্স’, ‘বেয়নেট ফাইটিং’ ও ‘সশস্ত্র সালামে’ অংশ নিয়েছি।

প্রশ্ন: এবার অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত আপনার ‘অটিস্টিক শিশুরা কেমন হয়’ বইটি নিয়ে কিছু বলুন?
নানজীবা: এটি আমার প্রথম বই তাই আমি খুবই আনন্দিত। আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। লেখা কেমন হয়েছে সেটা পাঠকদের বিচারের ওপর নির্ভর করে। আমরা অনেকেই শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করছি, অবহেলিত শিশু, সুবিধাবঞ্চিত নিয়ে কাজ করছি কিন্তু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিষয়টি আমার মতে এখনো তুলনামূলকভাবে আড়ালেই রয়ে গেছে। আমাদেরই দায়িত্ব তাদের নিয়ে ভাবা, তাদের জন্য কিছু করা।

প্রশ্ন: অনেকেই কবিতা বা গল্পের বই করেন, কিন্তু আপনার বইটি একটু ভিন্নধর্মী। এ ধরনের বই লেখার পেছনে কার প্রেরণা রয়েছে?
নানজীবা: আমার সব কিছুর প্রেরণা আমার ছোট ভাই ও আমার মা। এই বইটি লেখার চিন্তা এসেছে আমার ঘর থেকেই। আমার ছোট ভাই তাসিন খান জীম একজন ‘অটিস্টিক শিশু’। জীমকে মাথায় রেখে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও বিষয়টি পর্যালোচনা করে তথ্য-উপাত্তসহ অটিজমের সংজ্ঞা, প্রকারভেদ, কারণ, লক্ষণ, বিকাশ, বৈশিষ্ট্য, চিকিৎসা, করণীয় এবং অটিস্টিক শিশুর বেড়ে ওঠা, আচরণ, প্রশিক্ষণ, শিক্ষা, সচেতনতা, সামাজিক প্রেক্ষাপট ও প্রতিবন্ধকতাসহ ইত্যাদি বইটিতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি বইটি সবার ভালো লাগবে।

প্রশ্ন: নিজের ভবিষৎ পরিকল্পনা কী?
নানজীবা: কাজ শেখার চেষ্টা করছি আর সবার দোয়ায় আশা করি লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব। আমি কখনোই শুধু দেশ নিয়ে ভাবি না। আমার লক্ষ্য সবসময় আন্তর্জাতিক। আমার চাওয়া- একদিন আমাকে দিয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে চিনবে গোটাবিশ্ব। তবে আপাতত আকাশে ওড়ার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।

বিএনএন: আপনাকে ধন্যবাদ
নানজীবা: আপনাদেরও ধন্যবাদ

Related Posts